কলকাতা, ৩১ জুলাইঃ একের পর এক মামলার মুখে দাঁড়িয়ে আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। শুক্রবার এমনই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেবাশ্রয় প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, ডিজে-সংক্রান্ত মামলা, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ-সহ একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজিৎ দাস ওরফে ববির দায়ের করা অভিযোগও সেই তালিকায় রয়েছে। এই সমস্ত মামলায় আইনি সুরক্ষা চেয়েই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।
শুক্রবার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করেন, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়েরের বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাত বছর আগের ঘটনার ভিত্তিতে এখন মামলা দায়েরের কারণ কী। আদালতের মন্তব্য, তদন্তে কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না, তবে এত দীর্ঘ সময় পরে এফআইআর হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
অভিষেকের পক্ষে আইনজীবী শংকরনারায়ণ আদালতে দাবি করেন, ৪ মে-র পর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি নেই, অথচ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই মামলাগুলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে কেন আলাদা সুবিধা দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে তিনি আইনের নিয়ম মেনে আগাম জামিন চাইতে পারেন। পাল্টা বিচারপতি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এত দীর্ঘ সময় পরে এফআইআর খুব একটা দেখা যায় না। তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু গ্রেপ্তার ছাড়াই তা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি নির্দেশ দেন, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৬ আগস্ট।





