দিল্লি, ৩০ জুলাইঃ যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে ছররা বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে যখন চাপের মুখে কেন্দ্র, তখনই সামনে এল সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংয়ের বার্তা। বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জানিয়ে দিলেন, কর্তব্য পালনের সময় সদুদ্দেশ্যে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের দায়ভার তিনি নিজেই নেবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
গত সোমবার সিআরপিএফের এক অনুষ্ঠানে জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিং বলেন, “দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনারা সদুদ্দেশ্যে যা যা করেছেন, তার সব কিছুর দায় আমি নিচ্ছি। কোনও রকম দ্বিধা না রেখে নির্ভীকভাবে দায়িত্ব পালন করুন।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যদি কোনও ঘটনার দায় নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা হলে সিআরপিএফের ডিজি হিসেবে সেই দায়িত্ব আমি নেব।”
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে ছররা বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় অন্তত পাঁচ জন আহত হন বলে অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে এক সাংবাদিকও রয়েছেন। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেদিন র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের কয়েকজন সদস্যের হাতে পেলেট গান তুলে দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই বলপ্রয়োগের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। অভিযোগের তির কখনও র্যাফের দিকে, কখনও দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফের দিকে ঘুরে যাচ্ছে। কোন বাহিনীর নির্দেশে এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে দায় এড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
এই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ইস্তফার দাবিও আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, গুলিচালনার নির্দেশ যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে হয়ে থাকে, তবে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে। আর যদি তাঁর অগোচরে এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তা হলেও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় না।
এই পরিস্থিতিতে সিআরপিএফ ডিজির মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে। যদিও তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার উল্লেখ ছিল না, তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যন্তর মন্তরের ঘটনাকে ঘিরে চলা বিতর্কের আবহেই এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।





