দিনহাটা, ৩০ জুলাইঃ আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতে অনুপস্থিত থাকার ক্ষোভ। দুই মিলিয়ে বৃহস্পতিবার দিনহাটার বুড়িরহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উত্তেজনা ছড়াল। প্রধান আলিমা খাতুন বিবির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুরও চালায়।
বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ বুড়িরহাট এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিছিল শেষে প্রধানের বাড়ির সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে নিয়মিত আসেন না প্রধান। ফলে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শুধু প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগই নয়, আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তোলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে সেই অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিও তোলেন তাঁরা।
এদিন বিক্ষোভে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দিনহাটা-২ ব্লকের সহ-সভাপতি আব্দুল সাত্তারের বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন এক স্থানীয় ব্যক্তি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেও বিক্ষোভস্থলে উত্তেজনা ছড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। যদিও ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পরে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রধান আলিমা খাতুন বিবির বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁর স্বামী আব্দুল সাত্তারের তরফেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসায় বুড়িরহাটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করে কি না, এখন সেদিকেই নজর।





