দিল্লি, ৩০ জুলাইঃ লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরই ঘোষণা করেছিলেন, সংসদের অধিবেশন চলা পর্যন্ত রোজই সংসদ চত্বরে এসে প্রতিবাদ জানাবেন। বৃহস্পতিবার সেই প্রতিশ্রুতিই রাখলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এ দিনের বিক্ষোভে ছিল অভিনব সংযোজন বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদদের ছবি-সহ ব্যানার। আর সেই বিক্ষোভের মাঝেই কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে কয়েক মিনিটের কথোপকথন ঘিরে তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক চর্চা।
সংসদে কটূক্তি, সাংসদদের অপমান এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে স্পিকার ওম বিড়লা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছেন। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এ দিন সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে একাই অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন তিনি। হাতে ছিল একটি বড় ব্যানার, যেখানে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির তথা এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদের ছবি ছাপা ছিল। তাঁদের উদ্দেশে স্লোগানও তোলেন তিনি‘মোদি কে সাথ ২০ গদ্দার’। কখনও সংসদের প্রবেশপথে, কখনও সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে দেখা যায় তাঁকে।
এই সময়ই সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে আসছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সঙ্গে কয়েক জন কংগ্রেস সাংসদ। প্রিয়াঙ্কাকে দেখে কল্যাণ বলেন, “প্রিয়াঙ্কা জি, সদন মে মোদি কে সাথ ২০ গদ্দার হ্যায়।” জবাবে হাসতে হাসতেই প্রিয়াঙ্কা এগিয়ে এসে বলেন, “দাদা, এঁরা তো একসময় কংগ্রেসে ছিলেন। পরে আপনাদের দলে গিয়েছিলেন। এখন আবার আপনাদেরও ছেড়ে দিলেন।”
কংগ্রেসের প্রসঙ্গ উঠতেই কল্যাণের সুর চড়ে যায়। তাঁর জবাব, “আমরাও তো কংগ্রেসে ছিলাম। প্রণবদারা যদি সিপিএমের বি-টিমের মতো কাজ না করতেন, তা হলে দিদিকে দল ছাড়তে হত না।” যদিও প্রিয়াঙ্কা পাল্টা শান্ত গলাতেই বলেন, “কিন্তু রাজীবজির সঙ্গে দিদির সম্পর্ক তো ভালো ছিল।” তাতেই আরও উত্তেজিত হয়ে কল্যাণের মন্তব্য, “সেই সম্পর্ক আপনারাই রাখতে পারেননি।”
এই কথোপকথনের মধ্যে কংগ্রেসপন্থী নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব কিছু বলতে গেলে তাঁকেও থামিয়ে দেন কল্যাণ। যদিও বিতর্ক আর দীর্ঘায়িত হয়নি। তবে সংসদ চত্বরে এক সাংসদের একক বিক্ষোভ এবং তার মাঝেই কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে এই বাক্যবিনিময় দিনের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





