নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাইঃ নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে ছাত্র আন্দোলনের আবহে এবার পড়ুয়াদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বিক্ষোভে অংশ নিলে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই নির্দেশ ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যন্তর মন্তর বা তার আশপাশে কোনও বিক্ষোভে যোগ দেওয়া বা জমায়েতে উপস্থিত থাকলে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আইআইটি মাদ্রাজ-সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকে দূরে থাকার এবং বিক্ষোভ-সংক্রান্ত সমর্থনসূচক পোস্ট বা ভিডিও সমাজমাধ্যমে না ছড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই তালিকায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস কে দিল?’’ সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানপ্রদত্ত। সেই অধিকার খর্ব করার যে কোনও চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর মন্তব্য, ‘‘সময় এলে প্রত্যেককে এর জবাব দিতে হবে।’’
নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলন ইতিমধ্যেই রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই আবহে একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সতর্কবার্তা, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদ দুইয়ের টানাপোড়েনেই নতুন মাত্রা পেল ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিতর্ক।





