নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ একের পর এক আইনি জটিলতার মধ্যেই ফের নতুন মামলার মুখে পড়লেন বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা, বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি রাজা ঘোষ-সহ মোট ছ’জন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সদাইপুরের সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ ঘোষ চলতি বছরের ১১ জুন সিউড়ির মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগপত্রে প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ এবং উত্তম ঘোষের বিরুদ্ধে সরাসরি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডল, জীবনকৃষ্ণ সাহা ও রাজা ঘোষের নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের প্রভাব খাটিয়ে ওই টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগ পাওয়ার পর আদালত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিউড়ি থানাকে। নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা না পড়ায় একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অগ্রগতি রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলা রুজুর নির্দেশ দেয় আদালত। সেই অনুযায়ী প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ২০১৭ সালে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁর এবং তাঁর এক আত্মীয়ের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু সেই নিয়োগপত্রে কর্মস্থলের উল্লেখ না থাকায় চাকরিতে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, পরে আরও টাকা দাবি করা হয় পোস্টিংয়ের আশ্বাস দিয়ে।
কল্যাণ ঘোষের আরও দাবি, সেই সময় সিউড়ি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া এই তদন্তে অনুব্রত মণ্ডল-সহ অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে অভিযোগের বিষয়ে অনুব্রত বা অন্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





