কলকাতা, ১০ জুলাইঃ প্রথম বাজেট পেশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামোয় এত বড় ব্যয়ের অর্থ আসবে কোথা থেকে? বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, দুর্নীতির পথ বন্ধ করেই রাজ্যের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এবার নবান্ন সূত্রে উঠে আসা পরিসংখ্যান সেই দাবিকেই আরও জোরালো করছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, চলতি বছরের ৯ মে সরকার গঠনের পর থেকে ৯ জুন পর্যন্ত এক মাসে রাজ্যের রাজস্ব আদায় গত আর্থিক বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে। অর্থদপ্তরের মতে, জমি রেজিস্ট্রি, আবগারি, খনিজ সম্পদ এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতে ফাঁকফোকর বন্ধ করায় এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। সরকারের দাবি, এতদিন যে অর্থ বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির মাধ্যমে বেরিয়ে যেত, এখন তা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগে বছরে মাত্র আট কোটি টাকা রাজস্ব পেত সরকার, বাকি অর্থ অবৈধ পথে বাইরে চলে যেত। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরে মাত্র এক মাসেই ওই খাত থেকে ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। নবান্ন সূত্রে আরও দাবি, একটি নির্দিষ্ট পাথর খাদান থেকে আগে যেখানে বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, এখন সেখান থেকেই মাসে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব মিলছে।
সরকারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণেই অতীতের আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কাজও শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বৈঠক করেছে।
অর্থদপ্তরের এক কর্তার বক্তব্য, উন্নয়নের জন্য সব অর্থ নতুন করে সংগ্রহ করতে হয় না; রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতি রোধ করা গেলেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতা অনেকটাই বাড়ে। সরকারের দাবি, রাজস্ব বৃদ্ধির এই ধারা বজায় থাকলে বাজেটে ঘোষিত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অর্থের জোগান নিশ্চিত করাও সহজ হবে।





