কলকাতা, ১০ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই আইনি লড়াইয়ের রূপ নিচ্ছে। ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মেলায় এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল। আগেই কলকাতা পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, ধর্মতলার মতো ব্যস্ত এলাকায় ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির।
এ বছর ২১ জুলাইকে ঘিরে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে পালিত হয়ে আসা শহিদ দিবস এবার দলীয় বিভাজনের আবহে অনিশ্চয়তার মুখে। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে নিহত ১৩ জন যুব কর্মীর স্মৃতিতে প্রতিবছর ধর্মতলায় সমাবেশ করে তৃণমূল। কিন্তু নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সেই ঐতিহ্যকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ইতিমধ্যেই কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ উভয় পক্ষেরই ধর্মতলায় সভার আবেদন খারিজ করেছে কলকাতা পুলিশ। এরপর বিকল্প স্থান চেয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তর সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতপন্থীরা। তাঁদের তরফে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভার অনুমতি চাওয়া হলেও তাতেও সবুজ সংকেত মেলেনি।
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের কাছে এবারের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র সভাস্থল নির্ধারণ নয়, সংগঠনের অস্তিত্বও। দলীয় প্রতীক, তহবিল এবং নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে বহু সাংসদ, বিধায়ক ও নেতার বিদ্রোহ শাসকদলের সাংগঠনিক শক্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সেই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অনুগত নেতা-কর্মীদের একত্রিত করে সংগঠনের ভিত আরও শক্ত করার কৌশল নিয়েছে কালীঘাট শিবির।
এরই মধ্যে ধর্মতলায় সভার প্রস্তুতি হিসেবে জায়গা মাপামাপি করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই জটিলতা বেড়েছে।
এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে। আদালত কি পুলিশের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, নাকি বিকল্প কোনও পথ খুলে দেবে তার উপরই নির্ভর করছে এ বছরের ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক সমাবেশের ভবিষ্যৎ।





