দক্ষিন ২৪ পরগণা, ১০ জুলাইঃ বারুইপুরের অশান্তি এখনও থামেনি। ধর্ষণ-খুন, গণপিটুনি এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফের ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার একাধিক কর্মসূচি নিয়ে বারুইপুর সফরে তাঁর নির্যাতিতার পরিবারের পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে। কয়েক দিন আগেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন। এবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে আবারও দেখা করে পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে শুক্রবার সকালে সূর্যপুরে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে যান প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই। প্রশাসনিক প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা হয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইন্দ্রজিতের বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তায় বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পোশাকও দেওয়া হয়েছে পরিবারকে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের এই সহযোগিতায় তাঁরা কৃতজ্ঞ। তবে তাঁদের একটাই দাবি, যাঁরা নির্দোষ মানুষকে গণপিটুনিতে হত্যা করেছেন, তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
শনিবারের কর্মসূচিতে সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনও করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ধর্ষণ ও খুনের শিকার নাবালিকার বাড়িতেও গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
গত শনিবার নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সকালে পুকুর থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছিল। ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন এক যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনি দেয়, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত উসকানিতে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
ইতিমধ্যে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অশান্তি ও গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক তদন্ত চলছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোয় বারুইপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।





