খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ১০ জুলাইঃ অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তার মধ্যেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক আবেদনের শুনানির দিন স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাগুলির শুনানি হওয়ার কথা। ফলে রামমন্দিরের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণের আওতায় আসছে।
অভিযোগ, রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদানের বিপুল অঙ্কের অর্থে অনিয়ম হয়েছে। তদন্তে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পাশাপাশি শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পদত্যাগী প্রধান চম্পত রাইকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তবু বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এত বড় আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত রাজ্য পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই কারণেই সিবিআই তদন্ত, ফরেন্সিক অডিট, ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষকের (সিএজি) মাধ্যমে ট্রাস্টের আর্থিক নিরীক্ষা এবং ব্যাঙ্ক, ইউপিআই-সহ সমস্ত ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
মামলা আদালতে পৌঁছতেই অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। কারণ, আগামী সংসদের বাদল অধিবেশনে এই বিষয়টি বিরোধীদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এক বিবৃতিতে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করার মতো প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে দাবি করেছেন, কিছু হিন্দু-বিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তি এই ঘটনাকে ব্যবহার করে হিন্দু ধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, তদন্তকারী সংস্থা ও মন্দির কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখা উচিত।
এদিকে প্রতাপগড়ের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পাল্টা বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, অযোধ্যার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও ধর্মীয় গুরুত্বই বিরোধীদের অস্বস্তির কারণ। তাঁর অভিযোগ, একটি ঘটনাকে সামনে এনে হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ওয়াকফ জমি-সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানান তিনি। এখন নজর ১৩ জুলাইয়ের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই সংবেদনশীল মামলায় কী নির্দেশ দেয়, তার ওপরই পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণের অনেকটাই নির্ভর করবে।





