বারুইপুর, ১০ জুলাইঃ বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসা, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনায় ধরপাকড় আরও জোরদার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বারুইপুরের একাধিক এলাকায় পুলিশ, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-এর যৌথ অভিযানে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি ছড়ানো, গণপিটুনিতে উসকানি দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫।
গত সপ্তাহে নিখোঁজ এক নাবালিকার দেহ পুকুর থেকে উদ্ধারের পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল ওই নাবালিকাকে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়। সেই ঘটনার পরই সূর্যপুর এলাকায় উত্তেজিত জনতা সন্দেহের বশে এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে জানান, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি নির্দোষ ছিলেন এবং দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
এরপর থেকেই শুরু হয়েছে লাগাতার পুলিশি অভিযান। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কীভাবে হিংসার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোন, ডিজিটাল তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার ফের বারুইপুর সফরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সেখানে তিনি একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনের আশা, নতুন ফাঁড়ি চালু হলে এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ আরও দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারবে।





