শিলিগুড়ি, ৯ জুলাইঃ উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষা পরিকাঠামো এবং রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সমস্যা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন রাজ্যপাল। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ জন উপাচার্য এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একে একে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা, শিক্ষক ও কর্মীর ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা শোনেন রাজ্যপাল। তবে বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই বৈঠকের আয়োজন, সেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রতিনিধিকেই সেখানে দেখা যায়নি। তা ঘিরেই শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বৈঠক শেষে রাজ্যপাল প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও, উপস্থিত উপাচার্যদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সূত্রের খবর, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চান রাজ্যপাল। কোথায় স্থায়ী শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীর অভাব রয়েছে, প্রশাসনিক কাজকর্মে কী ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কী প্রয়োজন এসব বিষয় নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা সমাবর্তন অনুষ্ঠান দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন রাজ্যপাল। উপস্থিত উপাচার্যদের তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান বলে বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য জানান, বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কার্যকর করার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, রাজ্যপাল প্রতিটি বিষয় মন দিয়ে শুনেছেন এবং নিজে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, কর্মী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে বৈঠকের সমস্ত আলোচনার আড়ালে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুপস্থিতি। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সমস্যা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এই অনুপস্থিতি প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, নাকি অন্য কোনও কারণে তা নিয়েই শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা।





