কলকাতা, ৭ জুলাই: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে মৃত ১৬ শ্রমিকের পরিবারের প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সেখানেই নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা এবং আহতদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত ২৪ জুন তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদাম আচমকাই ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু শ্রমিক আহত হন।
মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সমস্যা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয়তার কথাও শোনেন তিনি। সেই সময় এক নিহত শ্রমিকের স্ত্রী চাকরির আবেদন জানালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টি দেখবেন। তিনি জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খতিয়ে দেখা হবে। আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহতদের পরিবারের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি মৃত শ্রমিকদের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
আহতদের চিকিৎসা নিয়েও এ দিন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের খরচে তাঁদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন তিনি।
তারাতলা বিপর্যয়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার ভবিষ্যতেও থাকবে।





