কলকাতা, ৪ জুলাইঃ দলের অন্দরে টানা ভাঙন, একের পর এক নেতার বিদ্রোহী শিবিরে যোগদান এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই কর্মীদের উদ্দেশে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক নিয়েও যদি আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়, তবু রাজনৈতিক লড়াই থেকে তিনি সরে দাঁড়াবেন না। একইসঙ্গে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ নিয়েও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাংশের বিদ্রোহ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে একাধিক নেতার যোগদানের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘাসফুল’ নিয়েও বিরোধ দেখা দিতে পারে। যদিও এই বিষয়ে কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। সেই আবহেই মমতা বলেন, ‘‘প্রতীক যদি চলেও যায়, তাতে কিছু যায় আসে না। রাস্তায় বেরোলে আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। গলায় প্রতীক ঝুলিয়ে বাড়ি বাড়ি যাব। নতুন করে দল গড়ে তুলব।’’
তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যকে দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে তিনি সরাসরি মাঠে নামার ইঙ্গিতও দেন।
অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় বিকল্প স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও কর্মসূচি বাতিলের কোনও প্রশ্ন নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘রিকশায় চড়ে হলেও হবে ২১ জুলাই।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংগঠনিক ভাঙন, প্রতীক নিয়ে জল্পনা এবং সভা-সমাবেশের অনিশ্চয়তার মধ্যেও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখাই ছিল এ দিনের বার্তার মূল উদ্দেশ্য। দলীয় সংকটের এই সময়ে মমতার বক্তব্য তৃণমূলের আগামী রাজনৈতিক কৌশলেরও ইঙ্গিত বহন করছে।





