মুর্শিদাবাদ, ৪ জুলাইঃ বিজেপিকে লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। থানায় প্রবেশের আগে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমাকে গ্রেপ্তার করা হলে আরও ১০০ থেকে ১২০ জন স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হবেন। সেই তালিকাও প্রস্তুত রয়েছে।’’ তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত ২৬ জুন রেজিনগরে দলের এক সভায় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবীরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, সেই সভায় তিনি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। এরপর রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়।
তদন্তের স্বার্থে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় হুমায়ুনকে রেজিনগর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই থানায় পৌঁছন। তবে শক্তিপুর থানার ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার তাঁকে হাজিরার জন্য ডাকা হলেও তিনি সেখানে যাননি।
এদিকে, থানায় হুমায়ুনের হাজিরাকে ঘিরে রেজিনগরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল থেকেই থানার অদূরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলের কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে থানা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিও চালানো হয়।
এর আগে এই মামলায় সভার আয়োজক হিসেবে অভিযুক্ত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও তদন্তকারী সংস্থার।





