কলকাতা, ৪ জুলাইঃ প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্তির প্রাক্কালে নতুন করে বিচারের দাবি তুলল তাঁর পরিবার। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে উপস্থিত হয়ে মামলার পুনর্তদন্ত, হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন এবং ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানালেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এতদিন তদন্তের নামে ‘প্রহসন’ হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীরা এখনও আইনের আওতার বাইরে।
২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে গুলি করে খুন করা হয় কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে। এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত ছিলেন। ঘটনার তদন্তে নয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের জেল হেফাজতেই মৃত্যু হয়। বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। তাঁদের দাবি, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের কাছে পুনর্তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বরুণের দাদা ও দিদি জানান, শুভেন্দু অধিকারী সিট গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘‘বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক। হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে সিট গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।’’ একইসঙ্গে তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ১৪ বছরেও বিচার প্রক্রিয়া পূর্ণতা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম আলোচিত অপরাধমূলক মামলা। পরিবারের নতুন আবেদন এবং সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপে মামলাটি ফের রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল।





