খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৪ জুলাইঃ অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনায় নগদ অর্থের একটি অংশ উদ্ধার হলেও এখনও মেলেনি চুরি যাওয়া সোনার হদিশ। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রাথমিক অনুমান, চুরি হওয়া সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুটে পরিণত করা হয়ে থাকতে পারে, যাতে তার পরিচয় মুছে ফেলা যায় এবং সহজে লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। তদন্তে উঠে আসা এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সোনার সন্ধানে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিট ইতিমধ্যেই রাম মন্দির পরিদর্শন করেছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কেডি বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গয়না, মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য সম্পদের সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দানে পাওয়া সোনা-রুপো ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা, সংশ্লিষ্ট নথি এবং সরকারি মালিকানাধীন প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (মিন্ট)-এর সঙ্গে লেনদেনের সমস্ত তথ্যও তলব করেছেন তদন্তকারীরা।
সিটের ধারণা, ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান ধাতুর একটি অংশ নির্ধারিত নিয়মে ব্যাঙ্ক বা সরকারি টাকশালে পাঠানো হয়নি। তদন্তে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে, নগদ অর্থের সঙ্গে কিছু মূল্যবান ধাতুও চুরি গিয়েছে। তবে সেই সোনা এখনও উদ্ধার না হওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ, তা গলিয়ে বিস্কুটে রূপান্তর করা হয়েছে, যাতে বাজারজাত করা বা গোপন রাখা সহজ হয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভক্তদের অনুদান থেকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। তবে সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পরিমাণ বা মজুত নিয়ে বিশদ আলোচনা নিয়মিত হত না বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ট্রাস্টের দাবি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৯.৪৪ কুইন্টাল (৯৪৪ কেজি) রুপো পরীক্ষা ও গলানোর জন্য সরকারি টাকশালে পাঠানো হয়েছিল। ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানিয়েছিলেন, ভক্তদের অনুদান হিসেবে প্রায় ১৩ কুইন্টাল রুপো এবং প্রায় ২০ কেজি সোনা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সম্পদের একাংশের বর্তমান অবস্থানই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।





