কলকাতা, ৪ জুলাইঃ খুন, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেফতার দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এবার সামনে এল আরও একটি গুরুতর অভিযোগ। বাগুইআটির এক জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতার দাবি, মন্দিরের দানপাত্র লুট থেকে শুরু করে ধারাবাহিক তোলাবাজির মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছিল। অভিযোগের তিরে রয়েছেন কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন।
৮৬ বছরের দেবকুমার দাশগুপ্তের দাবি, বহু পরিচিতের সহযোগিতায় তিনি একটি জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০২২ সাল থেকে দেবরাজ ও তাঁর সহযোগীরা মন্দিরকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। কখনও পাঁচ লক্ষ, কখনও আট লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। শুধু তোলাবাজিই নয়, মন্দিরের দানপাত্র থেকেও টাকা লুটের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
দেবকুমারবাবুর অভিযোগ, ক্রমাগত চাপ এবং আর্থিক ক্ষতির জেরে ২০২৩ সালে মাত্র সাত লক্ষ টাকায় মন্দিরটি বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। বর্তমানে শয্যাশায়ী ওই প্রবীণ দেবরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে দেবরাজের আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতেই জোর দিয়েছে তদন্তকারী দল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য অর্থ না থাকলেও, চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ওই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন দেবরাজ চক্রবর্তী। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁকে জেরা করা হয়েছে। বিশেষ করে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য ‘কালো’ টাকার উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহেই জোর দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।





