কলকাতা,৪ জুলাইঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক টানাপোড়েনের আবহে বড় ধাক্কা শাসকদলে। মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে দলের দুই শিবিরের সংঘাতের পর, আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দীর্ঘদিনের নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্য সভাপতি-সহ একাধিক দায়িত্ব এবং দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের সংকট আরও প্রকাশ্যে এল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা জানান, ৩ জুন তাঁকে রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দিন থেকে নিয়মিত মেট্রোপলিটন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে যেতেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘২২ জুন ও ১ জুলাই বাদে প্রতিদিন অফিসে গিয়েছি। সহকর্মীরাও তা জানেন।’’
শুক্রবার মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েনের পরই পরিস্থিতি বদলায়। চন্দ্রিমার দাবি, তিনি বাড়ি ফেরার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করে অভিযোগ করেন, তিনি নাকি প্রতিপক্ষের হাতে ভবন তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগেই তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান। চন্দ্রিমার কথায়, ‘‘দিদি আমাকে বললেন, তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে? আমি বললাম, আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন? আমার আনুগত্য নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তা হলে এই পরিস্থিতিতে আমার আর কাজ করা উচিত নয়।’’
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের স্বার্থে অতীতে অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেও দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যে কখনও ঘাটতি ছিল না। তবে এই ঘটনার পর কালীঘাটে আর যাওয়ার প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
২০১১ সালে প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য, অর্থ, আইন এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রিমা। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের পরও তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সেই নেত্রীর আকস্মিক সরে দাঁড়ানো তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





