কলকাতা, ২ জুলাই: একদিকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে দলের নাম ও প্রতীকের দাবিতে হাজির হচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের প্রস্তুতি বৈঠক থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বেইমানদের আর ফেরাব না। দলের কর্মীরাই আমার সম্পদ। যাঁরা সঙ্গে আছেন, তাঁদের নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস চলবে।”
দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাসে বুধবার অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকে মমতা সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করার নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রে খবর, সমাবেশের অনুমতির জন্য ফের কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হবে। অনুমতি না মিললে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চের সামনে নিজেদের দাবি পেশ করবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস তাঁরাই এবং দলের নাম ও প্রতীকের উপর আইনগত দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন তাঁদের রয়েছে। গত ২২ জুন বিশেষ অধিবেশনে কার্যকরী সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এই শুনানির সময় মিলেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের আগে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে দিল্লিতে প্রতীক ও সংগঠনের দাবি ঘিরে আইনি লড়াই এবং কলকাতায় সংগঠনকে ধরে রাখার রাজনৈতিক বার্তা দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।





