ক্যানিং, ২ জুলাইঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর চর দখল করে নির্মিত বলে অভিযোগ ওঠা ক্যাফেটেরিয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে বুলডোজার চালাল প্রশাসন। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন ‘অরণ্যের কুলে’ নামে ওই ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু হয় মহকুমা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। সম্ভাব্য উত্তেজনার আশঙ্কায় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌখালি সেতু সংলগ্ন মাতলা নদীর চরে সেচ দপ্তরের জমি দখল করে ক্যাফেটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসার পর ইমরান মোল্লাকে সমস্ত নথিপত্র-সহ মহকুমাশাসকের দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়। জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখে প্রশাসনের দাবি, নির্মাণের পক্ষে কোনও বৈধ অনুমোদন বা জমির আইনসঙ্গত অধিকার দেখানো যায়নি। এরপরই ক্যাফে ভাঙার নোটিস জারি করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই নোটিস কার্যকর করতে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং মহকুমার প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা। জীবনতলা থানার পুলিশ-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা গোটা এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন, যাতে ভাঙার কাজ চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারের পর থেকেই তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ে। তদন্ত চলাকালীনই এই ক্যাফের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসা চললেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ছিল না। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নথি যাচাইয়ের পর উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্যানিংয়ে এই উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি জমি দখল করে নির্মিত কোনও স্থাপনা আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।





