অযোধ্যা, ২৯ জুনঃ রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। ইতিমধ্যেই এই মামলায় আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্যালক-জামাইবাবু অনুকল্প মিশ্র ও লবকুশ মিশ্র। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, অনুদান গণনার কাজে যুক্ত থাকার কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁদের সম্পত্তি ও জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। সেই আর্থিক উৎস নিয়েই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁরা।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, অযোধ্যার বাসাভ গ্রামের বাসিন্দা অনুকল্প মিশ্র কয়েক বছর আগে পর্যন্ত সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই জীবনযাপন করতেন। পরে তিনি রামমন্দিরের অনুদান গণনার কাজে যুক্ত হন। তদন্তকারীদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি গ্রামে বড় বাড়ি নির্মাণ, একটি ফার্মহাউস গড়ে তোলা, অযোধ্যায় একটি বাড়ি কেনা এবং একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) কেনেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তাঁর জামাইবাবু লবকুশ মিশ্রের বিরুদ্ধেও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরে জমা পড়া অনুদানের হিসাব এবং তার সংরক্ষণ নিয়ে একাধিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মন্দিরে জমা হওয়া বিপুল নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর একটি অংশের হিসাব মিলছে না। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে।
এদিকে, তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, অনিয়মের বিষয়ে ট্রাস্টের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি আগে থেকেই অবগত ছিলেন কি না, এবং অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব কেন হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আইনি অবস্থানও তদন্তের অংশ।
তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে অভিযোগগুলির বিচার প্রক্রিয়া বাকি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তবে এই অর্থকাণ্ড ঘিরে রামমন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং জবাবদিহি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।





