নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় নথি তুলে ধরে ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই আক্রমণের মাঝেই উঠে আসে আর এক নাম ‘কালী’। আর সেই সূত্র ধরেই তারাতলা কাণ্ডের রাজনৈতিক অভিঘাত গিয়ে পৌঁছয় কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরমহলেও। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না, এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হত ওর কথায়। কালীকে ধরলেই সব সামনে চলে আসবে।”
বিধানসভায় শুভেন্দুর মুখে ওই মন্তব্যের পর থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে কে এই কালী? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় হয়ে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে যোগ দেন তিনি। পরে ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হলেও প্রশিক্ষণ চলাকালীনই সেই চাকরি ছেড়ে ফের আগের দপ্তরে ফিরে যান। ২০১০ সাল নাগাদ কলকাতা পুরসভায় তাঁর কাজ শুরু। সে সময় মেয়র পারিষদ ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। পুরসভা সূত্রের দাবি, সেই সময় থেকেই ফিরহাদের ঘনিষ্ঠ সহায়ক হিসেবে উঠে আসেন কালীচরণ। পরে ফিরহাদ মেয়র হওয়ার পর তাঁকে ওএসডি পদে আনা হয়।
পুরসভার অন্দরে কালীচরণের প্রভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল। কর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁর নির্দেশ ছাড়া পুরভবনে কার্যত কোনও কাজ এগোত না। অভিযোগ, মেয়রের সঙ্গে দেখা করতেও তাঁর অনুমতি প্রয়োজন হত। তারাতলা কাণ্ডের রেশে সেই ‘কালী’-র ভূমিকাই এখন নতুন করে আলোচনায়।
যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, কালীচরণের সঙ্গে সাংসদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। বরং সাংসদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আগেই তাঁদের নজরে এসেছিল। সেই অভিযোগে ২০২৪ সালেই থানায় জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই ‘কালী’ নামটি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও নতুন মাত্রা পাচ্ছে।





