নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগোল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। মঙ্গলবার কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে দলের তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশন’-এর নথি জমা দিলেন ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ পাঁচ বিধায়ক ও কমিটির সদস্যরা। তাঁদের দাবি, দলীয় সংবিধান মেনে বিশেষ অধিবেশন ডেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে এবং তার সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, সোমবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনের ‘মিনিটস’ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে, দলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপসারণ করে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জোড়াফুল প্রতীক দাবি করার প্রশ্নই নেই। আমরাই আসল তৃণমূল। জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, দলের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো এখন তাঁদের হাতেই রয়েছে।
মঙ্গলবার বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি আরও কিছুটা বেড়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সদ্য কালীঘাট নেতৃত্বের জাতীয় কর্মসমিতি থেকে ইস্তফা দেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি বজবজের প্রবীণ বিধায়ক অশোক দেবও তাঁদের শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে, বিকেলে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীদের একটি দল দেখা করে। জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ছয় বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে।
অন্যদিকে কালীঘাটের নেতৃত্ব পুরো ঘটনাকেই ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের বৈধ চেয়ারপার্সন এবং সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ফলে তৃণমূলের অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াই এখন কমিশনের দরজায় পৌঁছে নতুন মাত্রা পেল।





