খেলাধুলা ডেস্ক, ২৪ জুনঃ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি ফুরিয়ে গিয়েছেন? বয়স কি শেষ পর্যন্ত তাঁর জাদুতে ভাটা ফেলেছে? উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্বের একাংশের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল এই প্রশ্নই। কিন্তু মাঠে নেমে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই সব জবাব দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তাঁর জোড়া গোলের সৌজন্যে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল। একই সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার পথও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল ইউরোপের এই শক্তিশালী দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় পর্তুগালকে। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনাল্ডো, তবে নুনো মেন্দেসের ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তিনি। কিন্তু তাতেই থেমে থাকেননি। ১৭ মিনিটে একটি চমৎকার পরিকল্পিত ফ্রি-কিক মুভ থেকে গোল করেন মেন্দেস। সবাই যখন রোনাল্ডোর শটের অপেক্ষায়, তখন হঠাৎ সরে গিয়ে সতীর্থকে সুযোগ করে দেন তিনি। সেই বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনাতেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
এরপর ম্যাচের ৩৮ মিনিটে নিজের প্রথম গোলটি করেন রোনাল্ডো। দুরন্ত ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। সেই গোলের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য নজির গড়েন পর্তুগিজ মহাতারকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও থামেনি পর্তুগালের দাপট। আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। পরে রাফায়েল লিয়াওও গোল করে স্কোরলাইনকে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। ম্যাচের শেষদিকে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে কিছুটা চোট পেলেও মাঠ ছাড়েননি রোনাল্ডো। হ্যাটট্রিকের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছেন, শট নিয়েছেন গোলমুখে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিন গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা হয়নি।
তবু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন একজনই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বয়স যে কেবল সংখ্যা মাত্র, বিশ্বমঞ্চে আরও একবার সেটাই প্রমাণ করে দিলেন সিআর সেভেন।





