কোচবিহার, ২৩ জুনঃ গত কয়েকদিন ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি কোচবিহার জেলাজুড়েও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকালেও জেলার একাধিক প্রান্তে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আর সেই বজ্রাঘাতের জেরে এক মহিলার মৃত্যু, এক ব্যক্তির আহত হওয়া এবং চারটি গরুর প্রাণহানির ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একের পর এক বজ্রপাতের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের শাটিমারি এলাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে মেনকা বর্মন নামে এক মহিলার। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি চলাকালীন মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শীতলকুচি থানার পুলিশ। পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙা মর্গে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের নিশিগঞ্জ এলাকায় বজ্রাঘাতে আহত হন পিন্টু পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি। জানা গিয়েছে, বাজার থেকে সাইকেলে করে বাড়ি ফেরার সময় আচমকাই বজ্রপাতের কবলে পড়েন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিশিগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এছাড়াও, মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের গোপালপুর এবং বৈরাগীরহাট এলাকায় বজ্রপাতে চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে খারাপ আবহাওয়ার সময়ে অপ্রয়োজনে খোলা মাঠে না যাওয়া, গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ চলাকালীন বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।





