খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জুনঃ জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হল তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিব সেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র অভ্যন্তরীণ সংকট। দুই দলেরই একাংশের নেতাদের দাবি, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এবং প্রবীণ নেতাদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ফলেই সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আদিত্য ঠাকরে-র উত্থান নিজ নিজ দলে দ্রুত ঘটেছে। দু’জনেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারের সদস্য হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পান। এরপর ধীরে ধীরে দল পরিচালনায় তাঁদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু প্রবীণ নেতা নিজেদের উপেক্ষিত বলে মনে করতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদান থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্ব কমে যায়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগও উঠতে থাকে।
মহারাষ্ট্রে এই অসন্তোষের জেরে প্রথমে একনাথ শিণ্ডে-র নেতৃত্বে বড় ভাঙন দেখা যায় শিব সেনায়। পরবর্তীতে দল দুটি পৃথক রাজনৈতিক সত্তায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূলের একাংশের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মতভেদের খবর সামনে এসেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, দলকে আধুনিক ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আনতেই বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তাঁদের মতে, পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দুই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখা এবং প্রবীণ-তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।





