কলকাতা, ১৯ জুনঃ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলীয় সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
১৯৯৮ সালে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বালু’ নামেই পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। দলের কঠিন সময়েও তিনি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।
রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তাঁর প্রতি আস্থা বজায় রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে হাবড়ার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাজের প্রশংসাও করেছিলেন। যদিও সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
গত শনিবার তাঁকে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই তিনি সেই পদ-সহ দলের সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র পৌঁছে গিয়েছে।
পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যন্ত বেশি, পাশাপাশি কিডনির সমস্যাতেও ভুগছেন। বর্তমান শারীরিক অবস্থায় দলীয় দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তবে এই পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁর অসুস্থতাকেই সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।





