ঝাড়গ্রাম, ১৯ জুনঃ একসময় মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন শকুন্তলা মাহাতো ওরফে ‘পুষ্পা’। দীর্ঘদিন জঙ্গলমহলে সশস্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। এবার তাঁকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের খবর, তাঁকে স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই এ সংক্রান্ত নির্দেশ ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছতে পারে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চাকরির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, আবাসন সুবিধা এবং অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হবে। স্পেশাল হোমগার্ড পদে যোগ দিলে মাসিক ভাতা হিসেবে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা শকুন্তলা মাহাতোর জীবনের গল্পও বেশ ব্যতিক্রমী। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে অল্প বয়সেই তিনি চরমপন্থার পথে পা বাড়িয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। তাঁর ভাই অমিয় মাহাতোর বক্তব্য, দীর্ঘদিন দারিদ্র্য এবং সামাজিক বঞ্চনার মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাঁদের পরিবারকে। তাই আত্মসমর্পণের পর শকুন্তলার নতুন জীবনের সুযোগকে ঘিরে আশাবাদী পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় শকুন্তলার জীবনের এক ভিন্ন দিকও উঠে এসেছে। জঙ্গলে থাকার সময় আহত পাখি কিংবা মা-হারা প্রাণীদের পরিচর্যা করতেন তিনি। সহযোদ্ধাদের স্মৃতিতেও রয়েছে সেই মানবিক মুখ। সম্প্রতি তাঁর কোলে একটি হনুমান শাবককে নিয়ে থাকা একটি পুরনো ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রশাসনের মতে, আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন মাওবাদীদের সমাজে পুনর্বাসিত করা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা শান্তি ও উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শকুন্তলা মাহাতোর নতুন যাত্রা সেই প্রচেষ্টারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।





