কালিম্পং, ১৬ জুনঃ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম পাহাড় সফরেই জিটিএ (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) দুর্নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কালিম্পংয়ে প্রশাসনিক বৈঠক এবং জনসভা থেকে তিনি জানিয়ে দিলেন, জিটিএ-র বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষক ও পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার ঘোষণাও করেন তিনি।
এদিন কালিম্পংয়ের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের উন্নয়নের পথে কোনও ধরনের দুর্নীতিকে বরদাস্ত করা হবে না। জিটিএ-র বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ এবং সেই অর্থের ব্যবহার নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ রেহাই পাবেন না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “পাহাড়ের উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু উন্নয়নের অর্থ যদি সঠিক জায়গায় না পৌঁছয়, তাহলে তার তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক। জনগণের টাকার হিসাব জনগণকে দিতে হবে।”
দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং পুলিশে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা যুবক-যুবতীদের জন্য এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পাহাড়জুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, শিক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নতুন নিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রশাসনিক বৈঠকেও পাহাড়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর এবং ঘোষণাগুলি পাহাড়ের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





