কলকাতা, ১৬ জুনঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপির সংগঠনে হঠাৎ করে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে গেরুয়া শিবিরে। দলীয় সূত্রে খবর, সংগঠনের ভিত মজবুত করতে এবং ‘বেনোজল’ রুখতে এবার শুদ্ধিকরণ অভিযানে নামতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। মূল লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা কর্মীদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া এবং সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা।
জানা গিয়েছে, বুথ, মণ্ডল থেকে শুরু করে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আরএসএস সক্রিয় ভূমিকা নেবে। কারা দীর্ঘদিন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কারা ফলপ্রকাশের পর হঠাৎ করে বিজেপির পতাকাতলে এসেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যেই সংঘের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
দলীয় মহলের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর গলায় গেরুয়া উত্তরীয় জড়িয়ে অনেকেই নিজেদের বিজেপি নেতা বা কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনে প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করছেন। এর ফলে বহু পুরনো ও ত্যাগী কর্মী কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
আরএসএস সূত্রে খবর, আগামী দিনে সংগঠনের দায়িত্ব বা পদ পেতে হলে শৃঙ্খলা, আদর্শ এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা গুরুত্ব পাবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দলে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি চালানো হবে। বুথ থেকে জেলা কমিটি পুনর্গঠনের সময় কারা দায়িত্ব পাবেন, তা অনেকাংশেই আরএসএসের অনুমোদনের উপর নির্ভর করবে।
দলীয় নেতৃত্বের আশঙ্কা, সুযোগসন্ধানী কিছু ব্যক্তি বিজেপির নাম ব্যবহার করে এমন কিছু কর্মকাণ্ড করছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। সেই কারণেই সংগঠনের ভেতরে আসল ও নকল বিজেপি কর্মীদের আলাদা করতে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ‘তৎকাল বিজেপি’দের প্রভাব অনেকটাই কমে যেতে পারে এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আবার পুরনো কর্মীদের হাতে ফিরে আসতে পারে।





