কলকাতা, ৩ জুন: দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা পড়ল। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’-এর স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমর্থন তারা ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহাকে উপদলনেতা এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক করার প্রস্তাবও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলের অন্দরে অসন্তোষের জল্পনা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল। কালীঘাটের একাধিক বৈঠকে বেশ কিছু বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে বিদ্রোহী বিধায়কদের একত্রিত করার চেষ্টা শুরু হয়।
বুধবার দুপুরে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও স্পিকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে বিধানসভায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং ‘আসল তৃণমূল’-এর স্বীকৃতির প্রশ্ন।
এদিকে এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “দল আইনি পথে যা করার করবে। যারা দল ছাড়ছেন, তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জনগণই শেষ কথা বলবে।”
এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর রায়ই আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করতে পারে।





