কলকাতা, ২ জুনঃ মায়ের পর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন মেয়ে। একসময় বামফ্রন্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন প্রয়াত ছায়া ঘোষ। আর এবার বিজেপির টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তাঁর কন্যা গার্গী দাস ঘোষ। কান্দি কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়া গার্গী সোমবার লোকভবনে রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই মা-মেয়ের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রয়াত ছায়া ঘোষ ছিলেন মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক। বাম আমলে তিনি দু’দফায় মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও সামলেছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কৃষি বিপণন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জনমুখী কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন ছায়া ঘোষ।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন তাঁর মেয়ে গার্গী দাস ঘোষ। দীর্ঘদিন বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার পদ্ম প্রতীকে কান্দি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করেই মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে গার্গী বলেন, “মা সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক দল আলাদা হতে পারে, মতাদর্শও ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য একই।”
প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিত্ব পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই প্রার্থী করেছে এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দিয়েছে। কান্দির মানুষ আমাকে যে আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব। এখন আমি শুধু একজন বিধায়ক নই, একজন রাষ্ট্রমন্ত্রীও। ফলে দায়িত্ব আরও বেড়েছে। দলের নির্দেশ মেনে সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও জনসেবার আদর্শে মা ও মেয়ের এই সংযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।





