দিনহাটা, ২৬ মেঃ দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত ভেটাগুড়ি ১ নম্বর এবং ভেটাগুড়ি ২ নম্বর দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। মঙ্গলবার দিনহাটায় ১ নম্বর ব্লকের বিডিও বিষাদ ভট্টাচার্যের হাতে পদত্যাগ পত্র জমা দেন ভেটাগুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চুমকি মহন্ত এবং ভেটাগুড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রিয়াঙ্কা সরকার। এদিন এই পদত্যাগ পত্র দেওয়ার কারণ সম্পর্কে উভয়েই ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত পঞ্চায়েত ভোটে ভেটাগুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভেটাগুড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ভেটাগুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হন বিজেপি দলের চুমকি মহন্ত এবং ভেটাগুড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন বিজেপি দলের প্রিয়াঙ্কা সরকার। এরপর থেকেই ভেটাগুড়িতে বিজেপি এবং তৃণমূল দুটি দলের মধ্যে রাজনৈতিক টানা পড়েন চলছিল। এমনকি দুটি দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
গত লোকসভা ভোটে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জয়লাভ করে। বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক পরাজিত হন। নিশীথের গড় বলে পরিচিত ভেটাগুড়ির দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখলের জন্য তৎকালীন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস উঠে পড়ে লাগে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের প্রত্যক্ষ মদতে ভেটাগুরিতে দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসার জন্য কৌশল অবলম্বন করেন। এক সময় ভেটাগুড়ি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান চুমকি মহন্ত এবং ভেটাগুড়ি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রিয়াঙ্কা সরকার অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেন। ফলে দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে চলে যায়।
২৬ এর বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই ভেটাগুড়ি এক নম্বর এবং ভেটাগুড়ি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আর যাননি। এদিন দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দুজন প্রধান তারা সরাসরি দিনহাটা এক নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে আসেন। তারা বিডিও বিষাখ ভট্টাচার্যের হাতে পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
এ বিষয়ে ভেটাগুরি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, ব্যক্তিগত কারণে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের পথ থেকে ইস্তফা দিলাম। একসঙ্গে দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের পদত্যাগ করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রচন্ড আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার কি তাহলে দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন করে প্রধান নির্বাচিত হবেন, নাকি প্রশাসক হিসেবে কাউকে নিয়োগ করে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম চালানো হবে এ নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে দিনহাটায় এক নম্বর ব্লকের বিডিও বিশাখ ভট্টাচার্য্য কোন মন্তব্য করতে চাননি।





