কলকাতা, ২৫ মেঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র ‘জনতার দরবারে’র দ্বিতীয় দিনেও উপচে পড়ল সাধারণ মানুষের ভিড়। সোমবার সকাল থেকেই সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে হাজির ছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক, পার্শ্বশিক্ষক, নার্স, গ্রুপ ডি কর্মী থেকে শুরু করে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরাও। নিজেদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতেই তাঁরা সেখানে আসেন।
সোমবার দিনের শুরুতে লেকটাউনের একটি শিবমন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্দিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এরপর বেলা প্রায় ১১টা নাগাদ সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসা চাকরিহারা সুমন বিশ্বাস জানান, আগের সরকারে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার সুযোগ ছিল না। তাঁর কথায়, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা যেত না। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী আমাদের চিঠি গ্রহণ করেছেন। এতে প্রমাণ হল সাধারণ মানুষ চাইলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হোক, সেটাই তাঁদের মূল দাবি।
অন্যদিকে, সস্ত্রীক ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন প্রবীর মুখোপাধ্যায় নামে এক বৃদ্ধও। তাঁর অভিযোগ, পৈতৃক ভিটেতে ফ্ল্যাট তৈরির পরেও তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই পাননি। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আশ্বাস পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ওই বৃদ্ধ দম্পতি।
সূত্রের খবর, প্রতি সোমবারই এই ‘জনতার দরবার’ আয়োজন করা হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হলে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, বেলা ১২টার পর সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের সচিব এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।





