কলকাতা, ২৫ মেঃ কলকাতায় বড়সড় নারী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নেপাল থেকে কলকাতায় এনে তিন তরুণীকে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে সোনাগাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই তিন তরুণীকে। ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম শোভা তামাং। তিনি সোনাগাছির একটি বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই বাড়িতে বহু নেপালি যৌনকর্মী থাকতেন। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে নেপাল থেকে তরুণীদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কলকাতায় আনা হত। পরে তাঁদের সোনাগাছিতে বিক্রি করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার বিকেলে অভিযান চালায় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে তিন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ধৃত শোভা তামাংকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, নেপালের কোন এলাকা থেকে ওই তরুণীদের আনা হয়েছিল এবং কারা তাঁদের কলকাতায় আনার সঙ্গে জড়িত। কীভাবে কাজের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, তারও তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এই ঘটনার বিষয়ে নেপালের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে লালবাজার।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, একটি বড় আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃদেশীয় নারী পাচার চক্র এর পিছনে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা নেপালের গ্রামাঞ্চলে গিয়ে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসছে। এরপর তাঁদের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে পাচার করা হচ্ছে বলে অনুমান পুলিশের।
উল্লেখ্য, প্রায় আট মাস আগেও বড়তলা থানা এলাকায় একটি নারী পাচার চক্রের হদিশ পেয়েছিল পুলিশ। সেই সময় একটি বাড়ি থেকে ৯ নাবালিকা-সহ মোট ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ফের একই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনিক মহলে।
এই চক্রের সঙ্গে এ রাজ্যের কারা যুক্ত, ভিনরাজ্যের কোনও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা এবং আরও কতজন এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে ধৃত মহিলাকে জেরা করছে পুলিশ। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।





