কলকাতা, ১৮ মে: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-এর নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাঠানো হলেও, সেই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিধানসভা সচিবালয়। সূত্রের খবর, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি-র লেটারহেডে ওই নাম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সচিবালয়ের মতে, এভাবে বিরোধী দলনেতার নাম জানানো বিধানসভার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন কোনও রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে হয় না। বিরোধী দলের নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন বিধায়ক নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করবেন বলেই বিধানসভা সূত্রের মত। সেই কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল নেতৃত্বকে জানাতে সচিবালয়ের তরফে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের ভূমিকা ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েই এই বিতর্ক সামনে এল।
অন্যদিকে, সোমবার বিধানসভায় গিয়ে নিয়মাবলি খতিয়ে দেখেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিধানসভার রুল বুকে এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনও বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তিনি আরটিআই আবেদনও জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিন আরও একটি বিষয় নজর কাড়ে। বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট ঘর খোলা হয়নি। তা তালাবদ্ধ অবস্থাতেই ছিল। শুধুমাত্র বিরোধী দলের বিধায়কদের ব্যবহারের জন্য একটি আলাদা ঘর খোলা হয়। সেখানে গিয়ে বসেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুনাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন শোভনদেব। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও বড় সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিতে পারে।





