মণিপুর, ১১ অক্টোবরঃ ফের অশান্ত মণিপুর। শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চললেও উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে নতুন করে হিংসার আগুন জ্বলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু এবং ১৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে পাহাড়ি জেলাগুলিতে। কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় গুলির লড়াই, কোথাও গ্রামরক্ষীদের উপর হামলা, আবার কোথাও চলন্ত গাড়িতে থাকা সাধারণ যাত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপ করছে প্রশাসন।
হিংসার সূত্রপাত শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে। বেআইনি বাঙ্কার তৈরির অভিযোগে তা ভাঙতে অভিযানে নামে মণিপুর পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ দল। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েক জন মহিলা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনীও। সংঘর্ষে ডমখোনেই টৌথাং নামে ৪২ বছরের এক কুকি মহিলার মৃত্যু হয়। এর পরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। চাসাদ থানায় হামলার চেষ্টার পাশাপাশি কয়েকটি কাঠের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
গ্রামরক্ষী থেকে যাত্রী, বাড়ছে প্রাণহানি
শনিবারও হিংসা থামেনি। কামজং জেলার মাকুই ও নিংচৌ চিংডং গ্রামে নাগা গ্রামরক্ষীদের উপর হামলায় একাধিক মৃত্যুর খবর মিলেছে। কাংপোকপি জেলার তাপোন গ্রামেও অতর্কিত হামলায় এক জনের মৃত্যু এবং দু’জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্য দিকে, উখরুল জেলায় জাতীয় সড়ক ২০২-এর কাছে গুলিতে মৃত্যু হয়েছে সন্দীপ রাই নামে ৩০ বছরের এক যাত্রীর। গাড়িতে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি। একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হামলাকারীদের পরিচয় এবং সংঘর্ষের নেপথ্যের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
নিষেধাজ্ঞা, বন্ধে বাড়ছে উদ্বেগ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলার চাসাদ থানার ৪০০ মিটারের মধ্যে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। অন্য দিকে, কুকি সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে।
এই আবহে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ। রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি। তবে একের পর এক প্রাণহানি ও অগ্নিসংযোগে স্পষ্ট, মণিপুরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর পথ এখনও কঠিন। নতুন করে সংঘর্ষ ছড়ানো আটকানো এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।





