কোচবিহার, ১৪ জুলাইঃ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে এক ধাক্কায় বড়সড় রদবদল। একসঙ্গে ৩৩ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস আধিকারিককে বদল করে সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। সেই তালিকায় যেমন রয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ও এসটিএফের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর, তেমনই উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পড়েছে তার স্পষ্ট প্রভাব। কোচবিহার পেল নতুন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে বদল হল উত্তরবঙ্গের আইজি-ও।
কোচবিহারের বর্তমান পুলিশ সুপার জসপ্রীত সিংকে সরিয়ে পাঠানো হয়েছে সিসিডব্লিউ (Crime Investigation Wing for Women)-এর পুলিশ সুপারের পদে। তাঁর জায়গায় কোচবিহারের নতুন পুলিশ সুপার হচ্ছেন মনীশ যোশী। এতদিন তিনি কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জেলা পুলিশের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সীমান্তবর্তী জেলা কোচবিহারে আইনশৃঙ্খলা, চোরাচালান রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন পুলিশ সুপারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
শুধু কোচবিহার নয়, উত্তরবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও এসেছে পরিবর্তন। এতদিন উত্তরবঙ্গের আইজি হিসেবে দায়িত্বে থাকা কে. জয়ারামন-কে পাঠানো হয়েছে ডিরেক্টরেট অব ইকোনমিক অফেন্সেসের ডিরেক্টর পদে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সুকেশ কুমার জৈন, যিনি এতদিন সিসিডব্লিউ-এর আইজি ছিলেন। উত্তরবঙ্গের আট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তদারকিতে এই বদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পুলিশকর্তাদের একাংশ।
রদবদলের ছোঁয়া লেগেছে কোচবিহারের নারায়ণী ব্যাটালিয়নেও। এসটিএফের পুলিশ সুপার বিশপ সরকার-কে কমান্ড্যান্ট করে পাঠানো হয়েছে কোচবিহারের নারায়ণী ব্যাটালিয়নে। অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের নতুন পুলিশ সুপার হচ্ছেন কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ডিসি ওয়েলওয়াদ শ্রিকান্ত জগন্নাথরাও।
রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা ও বিশেষ শাখাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিআইডি-র অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন ডিজি নটরাজন রমেশ বাবু। বদল হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনার, ট্রাফিক, আইবি, এসটিএফ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে।
এদিকে, বারুইপুরের বহুচর্চিত নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তকারী বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত এসপি সৌমিক সেনগুপ্তকে। তাঁর বদলে দায়িত্ব পেয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত এসপি অতীশ বিশ্বাস।
প্রশাসনিক মহলের মতে, একযোগে এই ব্যাপক রদবদলের লক্ষ্য রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব এনে কাজের গতি ও সমন্বয় আরও বাড়ানো। কোচবিহারে নতুন পুলিশ সুপারের যোগদানের দিকেই এখন নজর জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।





