নয়াদিল্লী, ৬ অক্টোবরঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। তার জেরে গ্রেফতার। পুলিশের তরফে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেল নয়, জামিনেই মুক্তি পেলেন ১৭ জন পড়ুয়া ও সাংবাদিক। দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তরা অল্পবয়সি এবং তাঁদের কেউই ‘পেশাদার অপরাধী’ নন। ১৫ হাজার টাকার বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছেন নিম্ন আদালতের বিচারক অনিমেষ কুমার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ অক্টোবর। দিল্লির যন্তর মন্তরে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন ১৭ জনকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সোমবার রাতে তাঁদের আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশের তরফে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল।
পুলিশের অভিযোগ, ১৬৩ ধারা, অর্থাৎ পুরনো ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও ওই ১৭ জন বেআইনি ভাবে জমায়েত করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হেনস্থা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগও ওঠে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের মারধরে এক মহিলা কনস্টেবল জখম হয়েছেন।
অন্য দিকে, অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সাইমন ফারুকি। তাঁর যুক্তি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলির কোনওটিতেই সর্বোচ্চ সাজা সাত বছরের বেশি নয়। তাই গ্রেফতারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীর মধ্যে বেছে বেছে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সমর্থনে পুলিশ আদালতে কোনও সিসিটিভি ফুটেজও পেশ করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে আদালত অবশ্য পুলিশের অভিযোগকে হালকা করে দেখেনি। বিচারকের বক্তব্য, অভিযোগগুলি যথেষ্ট গুরুতর এবং একজন পুলিশকর্মী আহত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের উপর হামলার অভিযোগ কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তার পরেও অভিযুক্তদের বয়স এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকে পেশাদার অপরাধী হওয়ার কোনও তথ্য না থাকায় জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
তবে জামিন নিঃশর্ত নয়। নতুন কোনও অপরাধে জড়ানো যাবে না, ঠিকানা আদালতে জানাতে হবে, মোবাইল ফোন সবসময় চালু রাখতে হবে। মামলার শুনানিতে হাজিরাও বাধ্যতামূলক। আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তেও পারবেন না অভিযুক্তরা।
ফলে জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির রাজনীতির উত্তাপের মধ্যেই আপাতত স্বস্তি ১৭ জনের। তবে পুলিশের অভিযোগ ও আদালতের পরবর্তী শুনানিতে মামলাটি কোন দিকে যায়, নজর থাকবে সেদিকেই।





