কোচবিহার, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ হাতে বই, সামনে পথ। বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীকে শুধু স্মরণসভায় আটকে না রেখে তাঁর শিক্ষা ও সমাজসংস্কারের আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিল ‘নতুন সূর্যোদয়’। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সংগঠনের তরফে আয়োজন করা হল বিশেষ কর্মসূচির। বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের সদস্যরা।
এর পরেই শুরু হয় বই বিতরণ। পথ চলতি সাধারণ মানুষ এবং সংগঠনের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের পুস্তক। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যাসাগরের জীবন, শিক্ষা, সমাজসংস্কার এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আরও বেশি করে পরিচয় ঘটানোই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
বাংলার নবজাগরণের ইতিহাসে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা বহুমাত্রিক। শিক্ষা বিস্তার থেকে নারীশিক্ষার প্রসার, বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো—তাঁর কাজের পরিধি ছিল বিস্তৃত। সেই কারণেই তাঁর জন্মদিনে বইকে কর্মসূচির অন্যতম মাধ্যম করা হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী বিরাজ বোস, দীপা চক্রবর্তী, দেবাশিস রাউত এবং গদাধর দাস-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত সকলে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর সমাজের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তবে অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে পথচলতি মানুষের হাতে বই তুলে দেওয়ার পর্ব। ব্যস্ত রাস্তার পাশে আচমকা বই হাতে পেয়ে অনেকেই কর্মসূচিতে আগ্রহ দেখান। সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, বই মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও মানবিকতার বার্তাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
জন্মজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধার পাশাপাশি তাই এ দিনের কর্মসূচিতে ছিল একটি প্রতীকী বার্তাও বিদ্যাসাগরকে শুধু স্মরণ নয়, তাঁর আদর্শকে দৈনন্দিন জীবনে চর্চার সুযোগ তৈরি করা। মাল্যদান থেকে বই বিতরণ, সেই ভাবনাতেই অন্য মাত্রা পেল ‘নতুন সূর্যোদয়’-এর আয়োজন।





