খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বরঃ সন্তান হারানোর শোক যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। সেই অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই দিন কাটছে নদিয়ার কালীগঞ্জের নিহত নাবালিকা তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনের। মেয়ের মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে না পেরে এবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন তিনি। ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়োৎসব চলাকালীন ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় নাবালিকা তামান্না খাতুনের। আচমকা বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে নিভে যায় একটি তাজা প্রাণ। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় মোট ২৪ জন অভিযুক্ত, যাদের অনেকেই এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
মেয়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি গভীর অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদের জেরেই মঙ্গলবার তিনি একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার পর আবারও সুবিচারের দাবিতে সরব হয়েছে তামান্নার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে আতঙ্ক কাটবে না। তামান্নার কাকা রবিউল শেখ বলেন, “মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই দিদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অনেক অভিযুক্ত এখনও বাইরে ঘুরছে। যারা ধরা পড়েছে, তারা জামিনে বেরিয়ে এলে ফের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে তামান্নার পরিবার মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে নিহত নাবালিকার পরিবারের মধ্যে।





