দিনহাটা, ১৭ মে: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক দুর্নীতি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। সেই আবহেই এবার দিনহাটা পুরসভায় বিল্ডিং প্ল্যান পাসকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল উদয়ন গুহ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী তথা পুরসভার কর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে। শনিবার দিনহাটা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে কোচবিহার জেলার দিনহাটায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনহাটা পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাস করিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, নিয়ম না মেনেই বিভিন্ন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হতো এবং তার বিনিময়ে মোটা টাকার লেনদেন চলত। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সেই সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় মৌমিতা ভট্টাচার্যকে।
এর আগেও এই একই দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক চাপের মুখে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল গৌরীশংকর মহেশ্বরীকে। পরে দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন অপর্ণা দে নন্দী। কিন্তু চেয়ারম্যান বদল হলেও দুর্নীতির পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, পরবর্তী সময়েও একইভাবে ভুয়ো প্ল্যান পাসের মাধ্যমে দুর্নীতি চলতে থাকে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক নথি সংগ্রহ করেছে। তদন্তের স্বার্থে গৌরীশংকর মহেশ্বরীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার গ্রেপ্তারের পর মৌমিতা ভট্টাচার্যকে প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে দিনহাটা আদালতে পেশ করে পুলিশ। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মৌমিতা ভট্টাচার্য বলেন, “যা বলার আদালতেই বলব। কেন আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটাও আমি জানি না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দিনহাটা পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির রমরমা চলছিল। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত এগোলে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





