খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ জানুয়ারিঃ আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থার অফিসে ইডি অভিযানের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করার পরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে বলে খবর। তার আগেই সম্ভাব্য একতরফা শুনানি ঠেকাতে শনিবার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিল্লির কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে ইডি অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। সেই মামলার সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। এই অভিযানের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, বিজেপি ইডিকে ব্যবহার করে ভোটের রণকৌশল ও প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইডি অভিযানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে। পালটা তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডিও। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দুই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তুমুল বিশৃঙ্খলার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আদালত জানায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে।
এরপর প্রধান বিচারপতির এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে ইমেল করে ইডি এবং পৃথক বেঞ্চ গঠনের আর্জিও জানানো হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানায়, নির্ধারিত দিনেই শুনানি হবে। এই সিদ্ধান্তের পরই ইডি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে আগাম ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে, যাতে সুপ্রিম কোর্টে কোনও একতরফা নির্দেশ জারি না হয়। সব মিলিয়ে আইপ্যাক–ইডি মামলা ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।





