খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ জানুয়ারি: দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালালেও এখনও তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি কোনও সুখবর। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর সামনে এসেছে। কারণ, একদিকে যেমন অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, তেমনই অন্যদিকে ফের এক দফায় বাড়তে চলেছে মহার্ঘ ভাতা।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন ডিএ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গত ৩১ ডিসেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। এই সূচকের উপর ভিত্তি করেই বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ এবার ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। যদি প্রস্তাবিত হারে বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তবে ডিএ বেড়ে দাঁড়াবে ৬০ শতাংশে।
যদিও জানুয়ারি থেকে ডিএ কার্যকর হলেও সরকার সাধারণত মার্চ বা এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে থাকে। তবে সেক্ষেত্রেও কর্মীরা জানুয়ারি থেকেই বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবে বাড়তি ডিএ পাবেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে অষ্টম পে কমিশন কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। সাধারণত দশ বছর অন্তর নতুন পে কমিশন চালু হলে পুরনো কাঠামোর ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে ডিএ গণনা শুরু হয় শূন্য থেকে। যদিও এই বিষয়ে সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই সূত্রের খবর।
নয়া পে কমিশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১৫ নির্ধারণ করা হতে পারে। যদি তা কার্যকর হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মাসিক বেতন এবং পেনশনভোগীদের পেনশনে বড়সড় বৃদ্ধি ঘটবে।
উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭, যার ফলে ন্যূনতম বেতন ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ১.৯২। অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১৫ ধরা হলে ন্যূনতম বেতন বর্তমান ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





