খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: উত্তরপ্রদেশের বারবাঁকি জেলায় এক বিয়েবাড়িতে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে শেষ মুহূর্তে ভেঙে গেল বিয়ে। সাতপাক-সহ সব আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর বিদায়ের ঠিক আগে জানা যায়, পাত্র আসলে রূপান্তরকামী। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্রামে পৌঁছতে হয় পুলিশকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার ছিল বিয়ের লগ্ন। কনের পরিবারের তরফে ধুমধাম করে আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যান্ডপার্টি নিয়ে বরযাত্রী পৌঁছয় কনের বাড়িতে। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে সাতপাক সম্পন্ন হয়, বাসর রাতও কেটে যায় স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু পরদিন সকালেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়।
বিদায়ের আগে একদল ‘কিন্নর’ নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানাতে বিয়েবাড়িতে আসেন। তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন পাত্রকে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, তিনি রূপান্তরকামী। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে। শুরু হয় চাঞ্চল্য। অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বরপক্ষের কয়েকজন সেখান থেকে সরে পড়েন। তবে পাত্র ও তাঁর মাকে কনের পরিবারের সদস্যরা আটকে রাখেন।
ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও জড়ো হন। বচসা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই পক্ষকে শান্ত করে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সিদ্ধান্তে বিয়ে বাতিল করা হয়।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পরিবার চাইলে আইনি পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামাজিকভাবে সংবেদনশীল এই বিষয়টি ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠছে পরিচয় গোপন রেখে বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে।





