আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

২০২৬-এর লড়াইয়ের ডাক কাশীপুর থেকে ‘বিজেপিকে ৫০-এর গণ্ডি পার করতে দেব না’ পুরুলিয়ায় অভিষেক

Published on: January 21, 2026
---Advertisement---

খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ জানুয়ারিঃ পাখির চোখ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। পুরুলিয়ার কাশীপুরে আয়োজিত তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রণসংকল্প সভা’ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের সভায় তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন “ভারতীয় জুমলা পার্টিকে ৫০-এর গণ্ডি পার করতে দেব না, কথা দিয়ে গেলাম।” একই সঙ্গে পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।

সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “আগামী নির্বাচনে পুরুলিয়ায় ৯-০ করতে হবে। এই জেলার আসন সংখ্যা হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাকেও ছাপিয়ে যেতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, ৩৪ বছরের বাম জমানার ‘হার্মাদ’রা আজ জার্সি বদলে বিজেপির ‘জল্লাদ’ হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, এই বিজেপি-সিপিএম আঁতাতই দীর্ঘদিন ধরে পুরুলিয়ার উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জল জীবন মিশন, আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা এবং সর্বশিক্ষা মিশনের প্রাপ্য অর্থ রাজ্যকে দেওয়া হচ্ছে না। “জল জীবন মিশনে কেন্দ্রের ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা, সেটাও আটকে রাখা হয়েছে,” অভিযোগ তাঁর। স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “আপনি আপনার ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন, আমি আমাদের ১৫ বছরের কাজের হিসাব নিয়ে আসব। ১০-০ গোলে ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে পাঠাব।”

বাংলা ভাষা ও বাঙালি বিদ্বেষের ইস্যুতেও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সুকান্ত মজুমদার বা শুভেন্দু অধিকারীরা কোন ভাষায় কথা বলেন?” তাঁর স্লোগান “আমার মাটি সইবে না, ইউপি-বিহার হইবে না।”

রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য জঙ্গলমহলে শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরানো। ২০১০ সালের ঝালদার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মমতা না থাকলে আজও মাওবাদী আর সিপিএমের ব্যোম-বন্দুকের নিচেই থাকতে হতো।” তিনি জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যের ২০ লক্ষ মানুষের বাড়িতে আবাস যোজনার টাকা পৌঁছে যাবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আয়ুষ্মান ভারত বনাম স্বাস্থ্যসাথীর তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, “বিজেপির আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে পাকা ছাদ বা স্মার্টফোন থাকলে সুবিধা পাওয়া যায় না। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথীতে কোনও শর্ত নেই, সবাই পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা পান।” সম্প্রতি এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের স্বস্তির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ মাথা নত করেনি। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল লড়াই করেছে, আজ বাংলার মানুষের জয় হয়েছে।”

কাশীপুরের সভা থেকে রেলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ২০ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে রেলমন্ত্রকের কাছে দাবি জানাবেন। পুরুলিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালের উপমা টেনে তিনি বলেন, “লাল মানে থমকে যাওয়া, গেরুয়া মানে ধীরে চলা, আর সবুজ মানে এগিয়ে যাওয়া। ৩৪ বছর এই জেলা লাল ছিল, তারপর সবুজ হয়ে উন্নয়নের রথ ছুটেছিল। বিজেপির জল্লাদরা সেই গতি থামাতে চাইছে।”

সভা শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট “যতই হামলা হোক, আবার জিতবে বাংলা।” ২০২৬-এর নির্বাচনকে তিনি আখ্যা দেন ‘প্রতিবাদ, প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের ভোট’ হিসেবে। পুরুলিয়ায় ৯-০ ফল হলে আইটিআই, কোল্ড স্টোরেজ ও হাসপাতালের মতো সব উন্নয়নমূলক দাবির দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment