খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ মার্চঃ মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। এই ঘটনায় মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কিংশুক সরকার ও বাবাই চক্রবর্তী । শনিবার তাঁদের জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিংশুক সরকার এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে তাঁকে ওয়াকিটকি হাতে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী আধিকারিকদের। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে। জঙ্গিপুরের ফুলতলা মোড় এলাকায় রামনবমীর মিছিল পৌঁছতেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ইটবৃষ্টি, লাঠি-বাঁশ নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পাশাপাশি এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় বহু মানুষ জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ৪০ জনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে স্থানীয় পুলিশ হিমশিম খায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF), কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। শনিবারও এলাকা থমথমে রয়েছে।
এই ঘটনার পর জঙ্গিপুরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর ফলে পাঁচজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অশান্তি যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি পার্ক থেকে রামনবমীর মিছিল শুরু হয়েছিল। সেই মিছিল ফুলতলা মোড়ে পৌঁছতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে গোটা মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।





