মুর্শিদাবাদ, ৬ ডিসেম্বরঃ বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বহুদিনের অপেক্ষার পর এদিনই শিলান্যাস করতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক এবং তৃণমূল থেকে সদ্য সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে প্রায় তিন লক্ষ মানুষের সমাগম হবে। সেই সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভোর থেকেই এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শিলান্যাসস্থলকে ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী, নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও।
এই উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে একটি বিশেষ বার্তা দেন। যদিও তিনি সরাসরি হুমায়ুন কবীর বা বাবরি মসজিদের শিলান্যাস—কোনও বিষয়েই মন্তব্য করেননি, রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁর এই পোস্ট বর্তমান পরিস্থিতিকেই ইঙ্গিত করছে। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “একতাই শক্তি।” একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন যা বাংলায় সংহতি ও সম্প্রীতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, বাংলার মাটি সবসময়ই একতার, সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের মাটিতে বিভেদের কোনও জায়গা নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তিনি আরও জানান, বাংলায় হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান-জৈন-বৌদ্ধ সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে জানেন, আনন্দের উৎসব ভাগ করে নিতে জানেন। বাংলার বিশ্বাস, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”
এরপরই তিনি কড়া মন্তব্য করে বলেন, যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার কোথাও হুমায়ুন কবীর বা শিলান্যাসের উল্লেখ নেই, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে আজীবনের জন্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস বা নির্মাণের উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। যদিও হুমায়ুন কবীর কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগেই শিলান্যাসের অনুমতি পেয়ে যান।
সব মিলিয়ে, শিলান্যাসের দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ‘একতা’-বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন ধরনের ব্যাখ্যা ও জল্পনা তৈরি করেছে।





