বারুইপুর, ৫ জুলাইঃ বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার জুড়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ চলাকালীন গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে পুলিশের উপর হামলা, পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর এবং রেল অবরোধের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন তৎপর হয়। এর মধ্যেই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মঙ্গলবার তাঁদের ভবানীভবনে গিয়ে দেখা করার আহ্বান জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ওই নাবালিকা। রবিবার সকালে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর খুন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল।
ঘটনার পরই কুলপি রোডে নাবালিকার দেহ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য রেল পরিষেবাও ব্যাহত হয়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক যুবক, যিনি এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর জখম হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় মোট চার থেকে পাঁচ জন জড়িত। তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোনে নাবালিকার বাবাকে সমবেদনা জানিয়ে তিনি মঙ্গলবার ভবানীভবনে গিয়ে দেখা করার অনুরোধ জানান। পরিবারের সব দাবি শোনা হবে এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
একদিকে নাবালিকার মৃত্যুর তদন্ত, অন্যদিকে গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু দুটি ঘটনাই এখন পুলিশের পৃথক তদন্তের আওতায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।





